হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হলে দেশ স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরবে: ক্যারাভ্যান উদ্বোধনে নাহিদ ইসলাম
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে ক্যারাভ্যান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হলে দেশ আবার আগের সেই পুরনো ও বিতর্কিত ব্যবস্থাতেই ফিরে যাবে। আর যদি ‘না’ ভোট পাস হয়, তবে যে শক্তি ক্ষমতায় আসবে তারা স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলাটা সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সুকৌশলে ‘না’-এর পক্ষে জনমত গড়ার চেষ্টা করছে। যারা ‘না’-এর পক্ষে কথা বলছেন, তারা আসলে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান তা স্পষ্ট নয়।”
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি বৈষম্যহীন নতুন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়, তবে সেই মহান গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। সাধারণ মানুষের প্রতি আমাদের অনুরোধ—আপনারা যদি আমাদের (এনসিপি) ভোট নাও দেন, তবুও দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। এই ভোট দেশকে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।”
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, আজ থেকে শুরু হওয়া এই ক্যারাভ্যান প্রচারণা সারাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলেও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আমরা লক্ষ্য করছি। এই ঘুণে ধরা ব্যবস্থা পাল্টাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘গণভোট’ বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে ১৯৭৭ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও জনমতের প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে ২০২৬ সালের এই গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ২০২৪-এর অভ্যুত্থান পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার শৃঙ্খল ভাঙার চেষ্টা করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মেরুকরণ এখন তুঙ্গে। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতো নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এনসিপি-র মতো নতুন দলগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের ডাক দিচ্ছে। এই ত্রিমুখী রাজনৈতিক চাপে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন:
নাহিদ ইসলাম (১৩ জানুয়ারি ২০২৬): “না পাস হলে যে ক্ষমতায় আসবে, সে স্বৈরাচারী হবে।”
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: “ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্যই ক্যারাভ্যান প্রচারণা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ: ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং গণভোট মূলত বাংলাদেশের আগামীর শাসনতন্ত্রের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ (জানুয়ারি ২০২৬)। ২. জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলন ও ক্যারাভ্যান উদ্বোধনী বক্তব্য। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর আর্কাইভ (ঐতিহাসিক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |